আজ মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮ ইং, ০৫ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



আসলাম চৌধুরী ৭ দিনের রিমান্ডে

Published on 17 May 2016 | 3: 22 am

সোনালী নিউজ ডেস্ক :: ইসরায়েলি রাজনীতিকের সঙ্গে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এম আসলাম চৌধুরীর কথিত বৈঠক ও তাঁর গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে চাপে পড়েছে বিএনপি।
যদিও দলটির নেতারা বলছেন, আসলাম চৌধুরীর ভারত সফর ছিল তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। এর সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারপরও এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কয়েক দিন ধরে নানা খবর প্রকাশিত হওয়ায় দলটি একই সঙ্গে চাপে ও বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে বলে দলের স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতা প্রথম আলোকে বলেছেন।
এদিকে গতকাল সোমবার পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসলাম চৌধুরীর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার আদালত। তাঁকে আগের দিন সন্ধ্যায় রাজধানী থেকে পুলিশ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, বিএনপি মনে করে, মোসাদের সঙ্গে বিএনপিকে জড়িয়ে এ প্রচারণার নেপথ্যে সরকারের কারসাজি রয়েছে। তিনি বলেন, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কারও সঙ্গে আসলাম চৌধুরীর বৈঠক হোক বা না হোক, এ নিয়ে যেভাবে প্রচারণা হয়েছে, তাতে বিএনপি একটা মনস্তাত্ত্বিক চাপে পড়েছে। রাজনৈতিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ, বিএনপি নিজেকে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী দল মনে করে। এখন ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে বিএনপির নেতার বৈঠকের খবর দলের সমর্থক ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ওই নেতা বলেন, কথিত ওই বৈঠকের খবর ফিলিস্তিনও ভালোভাবে নেয়নি। যার কারণে গত মঙ্গলবার বিএনপির মহাসচিব নিজে ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসে গিয়ে এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু তাতে ফিলিস্তিনের দূতাবাস পুরোপুরি সন্তুষ্ট হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন না। এ কারণে আরও কিছু মুসলিম দেশের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের ঘাটতি তৈরি হতে পারে বলে দলটি আশঙ্কা করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় তাঁরা বিব্রত। কিন্তু আসলাম চৌধুরীর ওই সফর ছিল তাঁর ব্যক্তিগত। এখানে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, ইসরায়েলকে বিএনপি সমর্থন করে না। ফিলিস্তিনের জনগণের অধিকারের প্রতি বিএনপির পূর্ণ সমর্থন আছে।
দলীয় অপর একটি সূত্র জানায়, কথিত ওই বৈঠকের খবরে বিএনপির ভেতরও নানা ধরনের আলোচনা তৈরি হয়েছে। গত ১৯ মার্চ দলীয় সম্মেলনের পর বিএনপির নতুন কমিটিতে যুগ্ম মহাসচিব করা হয়েছে আসলাম চৌধুরীকে। এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলার আহ্বায়ক ছিলেন। তাঁর নতুন পদ পাওয়া নিয়ে চট্টগ্রামে দলীয় নেতাদের কারও কারও মাঝে চাপা ক্ষোভ আছে। কারণ, তিনি চট্টগ্রামে বিএনপির রাজনীতিতে অন্য অনেকের তুলনায় অপেক্ষাকৃত নতুন। এখন চট্টগ্রামকেন্দ্রিক বিএনপির একটি অংশ আসলামকে ঘায়েল করতে সক্রিয় হয়েছে। কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতাও তাঁদের সঙ্গে আছেন। এসব নেতার কেউ কেউ বলছেন, আসলাম চৌধুরীর কারণে এখন দলের নীতি-আদর্শ ও ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তাই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য  বলেন, ৯ মে অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় আসলাম চৌধুরীর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন যে বিএনপি সরকারে থাকাকালে একবার তাইওয়ানকে নিয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় বিএনপির সঙ্গে চীনের সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। এবার আসলে কী হয়েছে তা খোঁজ নিয়ে আসলাম চৌধুরী দোষী হলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এ বক্তব্যকে আরও কয়েকজন নেতা সমর্থন করেছিলেন। এরপর আসলামকে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া ডেকেছিলেন।
অবশ্য গ্রেপ্তার হওয়ার এক দিন আগে গত শুক্রবার আসলাম চৌধুরী বলেছিলেন, তাঁকে বিএনপির চেয়ারপারসন ডেকেছিলেন। তিনি পুরো বিষয়টি চেয়ারপারসনের কাছে ব্যাখ্যা করেছেন। চেয়ারপারসন তাঁকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, মেন্দি এন সাফাদি যে ইসরায়েলি রাজনীতিক, তিনি তা আগে জানতেন না। গত ৫ মার্চ তিনি ব্যক্তিগত সফরে ভারতে গিয়ে অন্য এক ব্যক্তির মাধ্যমে মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে পরিচিত হন। তাঁরা একসঙ্গে বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় ঘুরেছেন, খাওয়া দাওয়া করেছেন। কিন্তু কোনো বৈঠক করেননি।
বিএনপির একটি সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া এখনো মনে করেন যে আসলাম চৌধুরী ফাঁদে পড়েছেন, যা বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ।
এ বিষয়ে  বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী  বলেন, আসলাম চৌধুরীর দুটি পরিচয় আছে। একটি রাজনৈতিক, অন্যটি ব্যবসায়িক। তিনি ভারতে গিয়েছেন ব্যবসায়ী হিসেবে। সেখানে অনেকের সঙ্গে ছবি তুলেছেন। যদি গভীর কোনো ষড়যন্ত্র থাকত, তাহলে তিনি ছবি তোলার সুযোগই দিতেন না। তা ছাড়া এ ঘটনা ঘটেছে ভারতে। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ভারতের খুব ভালো সম্পর্ক। সেখানে এ ধরনের ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ হাস্যকর। বিএনপিকে হেয় করার জন্য সরকার এসব চক্রান্ত করছে বলে তিনি দাবি করেন।
আসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ: আসলাম চৌধুরীকে গতকাল আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুনানি শেষে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন ঢাকা মহানগর হাকিম শারাফুজ্জামান আনসারী।
আদালতে জমা দেওয়া পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি আসলাম চৌধুরী গত ৫ থেকে ৯ মার্চ বাংলাদেশের সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রের কাজে ভারতে যান। তিনি ভারতে থাকার সময় বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কবহির্ভূত রাষ্ট্র ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আসামি বর্তমান নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের নীলনকশা করেন। এই নীলনকশা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই সরকারকে অবৈধভাবে উৎখাতের জন্য সন্ত্রাস, নাশকতা, ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করেন; যা দেশের অখণ্ডতা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি ও রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য বিভিন্ন পরামর্শ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেন এবং এ জন্য মোসাদের সহযোগিতা চান আসলাম চৌধুরী। ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও তাঁর সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত আছেন, তাঁদের বিষয় জানতে তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন