আজ সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮ ইং, ০১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই : প্রধানমন্ত্রী

Published on 05 May 2016 | 3: 00 am

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছরের বেশি বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা নেই বলে সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ৩০ বছর পার হয়ে গেলে আর কেউ যুবক থাকে কি না- এ ব্যাপারে সন্দেহ আছে? এক সময় কিন্তু এই ৩০ বছর পার হয়ে গেলে বিয়ের কনে পাওয়া যেত না। কাজেই সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছরের বেশি বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই।

সংসদে প্রশ্নোত্তরে আজ বুধবার নুরুল ইসলাম ওমরের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। অবশ্য মন্ত্রীদের প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে শিক্ষা ক্ষেত্রে সেশনজট দূর করেছে। এখন আর কোনো সেশনজট নেই। ছাত্র-ছাত্রীরা সময়মতো পড়াশুনা করতে পারছে। ২২-২৩ বছরে মাস্টার্স পাশ করে বের হতে পারছে। তাই চাকুরীর জন্য ৩০ বছরই যথেষ্ট, ৩০ বছরের বেশি হলে তখন বলতে হবে মধ্য বয়সীদের চাকরি দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যেই আমি বলেছি বেকার যুবকদের জন্য একটি কর্মসংস্থাণ ব্যাংকই প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছি। যেখান থেকে তারা বিনা জামানতে অল্প সুদে ঋণ নিতে পারে। এরকম সুযোগ আমরা সৃষ্টি করে দিয়েছি। তারা যদি এই সুযোগগুলো গ্রহণ করেন তাহলে নিজেরাই নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন। পাশাপাশি আরো অনেক মানুষকে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে পারবেন। তাই আপাতত চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই।

৭.০৫ শতাংশ জিডিপি আর্জিত হবে : ফকরুল ইমামের (ময়মনসিংহ-৮) এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যানব্যুরোর প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী আমরা এ অর্থ বছরে (২০১৫-১৬) আমরা জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাব। এ অর্থ বছরে আমাদের জিডিপির লক্ষমাত্রা ছিল ৭ শতাংশ, যা ৭.০৫ শতাংহ হবে মর্মে আমরা আশা করছি। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উচ্চধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে আমরা খাতভিত্তিক নানামুখি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি।

পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ ৩১ শতাংশ সম্পন্ন : ফখরুল ইমামের অপর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ প্রায় ৩১ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আমরা পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারব।

এ টি এম আবদুল ওয়াহাবের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে। জাজিরা প্রান্তে অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ ৬৫ শতাংশ, মাওয়া প্রান্তে অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ ৭৩ শতাংশ, সার্ভিস এরিয়া (২) এর কাজ ৭৮ শতাংশ, মূল সেতু নির্মাণ কাজের ২১ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া নদীশাসন কাজের অগ্রগতি ১৮ শতাংশ, প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি ৩৪ শতাংশ এবং সার্বিক অগ্রগতি ৩১ শতাংশ হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

২০১৭ সালের মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ : মো: মনিরুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী বছর থেকে মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হবে। ২ হাজার ৯৬৭ কোটি ৯৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ব্যয়ে গাজীপুর ও বেতবুনিয়ায় দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন রিডানডেন্সি সুবিধাসহ নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।

তিনি বলেন, এই উৎক্ষেপণ হলে সমগ্র বাংলাদেশের স্থল ও জলসীমায় নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রাচারের নিশ্চয়তা হবে। এছাড়া বর্তমানে বিদেশী স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ বার্ষিক ১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সাশ্রয়সহ বৈদেশিক মুদ্র আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটে মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে। এর মধ্যে ২০টি বাংলাদেশের জন্য ব্যবহৃত হবে এবং ২০টি মধ্যপ্রাচ্য ও পাশ্ববর্তী দেশসমূহে লিজ প্রদানের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করাও সম্ভব হবে। এছাড়া মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ-এর মাধ্যমে প্রাকৃতিক দূর্যোগ টেরিস্ট্রিয়াল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্থ হলে সারাদেশে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা বহাল রাখা যাবে।

প্রতিটি অটিস্টিক শিশুর দায়িত্ব সরকারের : সেলিনা জাহান লিটার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বে অটিস্টিক শিশুদের সুরক্ষায় সায়মা ওয়াজেদ পুতুল নিরলস পরিশ্রম করছেন। তার এ সাফল্যের ধারাবাহিকতায় সরকার কর্তৃক ঘোষিত দেশের প্রতিটি অটিস্টিক শিশুর দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের অটিস্টিক শিশুদের মূলধারার শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে আগামী ২০১৬ সালের মধ্যে ৩ হাজার ১০০ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ প্রদান কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের মাধ্যমে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা পর্যায়ের ২ হাজার শিক্ষককে ৩ দিনের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ প্রদানসহ ইতোমধ্যে ১৪৩টি উপজেলার প্রতিটিতে ১০০ জনের অংশগ্রহণে মোট ১৪ হাজার ৩০০ জনকে নিয়ে ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়েছে।

নারী-শিশু নির্যাতনে কঠোর শাস্তি : এম এ আউয়ালের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের নারী ও শিশু অপহরণ রোধে এবং নানাভাবে হত্যা ও নির্যাতনকারীদের শাস্তি প্রদানে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে জানিয়ে নারী-শিশু নির্যাতনে কঠোর শাস্তির কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে নানা পদক্ষেপ : মাহফুজুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাইবার স্পেসকে জনগণের জন্য নিরাপদ করা এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ আইসিটি অবকাঠামো সুরক্ষায় সরকার ২০১৪ সালে ‘জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি কৌশলপত্র’ অনুমোদন করেছে। এছাড়া সাইবার অপরাধ দমনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন-২০১৬-এর সময়োপযোগী সংশোধন করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৩ সালে এ আইনের সংশোধন করা হয়েছে।

তিনি জানান, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে সাইবার অপরাধ শনাক্তকরণ ও দমনে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সাইবার অপরাধ তদন্তে সহায়তার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব প্রতিষ্ঠা করেছে। এছাড়া ফেসবুক, মাইক্রোসফট, গুগল ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তথ্য আদান প্রদানসহ সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছে। এছাড়াও সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে সাইবার থ্রেট ডিটেকশন এ্যান্ড রেসপন্স নামে প্রকল্প অনুমোদনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

 


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন