আজ শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনে মেরুদণ্ড ভেঙেছে আরফিনের

Published on 04 May 2016 | 2: 51 am

‘এ পর্যন্ত চার লাখ টাকা দিয়েছি। তাতেও হয়নি। আরো তিন লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে আমাকে ঘরে আটকে রেখে বেদম পিটিয়েছে। ছুরি দিয়ে মাথা ও হাতে আঘাত করেছে। তাতেও ক্ষ্যান্ত না হয়ে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ছাদ থেকে ফেলে দেয়। এতে আমার পাঁজর ও মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে গিয়েছে। আমি বাঁচতে চাই।’

মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নির্যাতনকারী স্বামী, শ্বশুর-শ্বাশুড়ি ও দেবরের বিচার চাইতে গিয়ে এভাবেই ঘটনার বর্ণনা দেন আরফিন আরা খাতুন। তিনি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কাকডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল মোত্তালেবের মেয়ে।

বৃদ্ধ বাবার কাঁধে ভর দিয়ে বিচারের আশায় সংবাদ সম্মেলন করতে আসেন আরফিন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০০৯ সালে একই উপজেলার ভাদিয়ালি গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে মিথুন রানার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে মিথুন রানা তার ওপর নির্যাতন শুরু করে।

তিনি বলেন, ‘বিয়ের প্রথম দুই বছরে কয়েক দফায় তাকে চার লাখ টাকা যৌতুক দেওয়া হয়। তারপরও শ্বশুর-শাশুড়ির নির্যাতন বন্ধ হয়নি। শুধুমাত্র আমার সুখের জন্য শ্বশুরের কোনো ভিটা না থাকায় আমার বাবা তিন কাঠা জমি কিনে তাতে বাড়ি করে দিয়েছেন। এমনকি আসবাবপত্রগুলোও বাবার বাড়ি থেকে এনেছি।’

‘এর কিছু দিন পরেই ওই জমি আমার কাছ থেকে মিথুন রানা হেবা দলিল করে নেয়। একইসাথে চলতে থাকে নির্যাতন। মিথুনের বিদেশ যাওয়ার জন্য ফের তিন লাখ টাকা যৌতুক চাওয়া হয়। তখন আমার বাবা আর টাকা দিতে রাজি হয়নি। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমি যৌতুক আইন ও হেবা দলিলের জন্য মামলা করি। যা আদালতে বিচারাধীন।

এরই মধ্যে গত ১৪ এপ্রিল মিথুন আমাকে তালাকনামা পাঠায়। ২১ এপ্রিল আমি আমার বাবার দেওয়া বাড়িতে গেলে স্বামী-শ্বশুরসহ অন্যান্যরা আমাকে ঘরে আটকে রেখে বেদম পিটিয়েছে। ছুরি দিয়ে মাথা ও হাতে আঘাত করেছে। তাতেও ক্ষ্যান্ত না হয়ে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ছাদ থেকে ফেলে দেয়।’

ওই গৃহবধূ বলেন, ‘এ ঘটনায় গত ২৪ এপ্রিল কলারোয়া থানায় মামলা দায়ের করলেও পুলিশ আসামি ধরছে না।’

আবদুল মোত্তালেব বলেন, ‘মেয়ের সুখের কথা ভেবে অনেককিছু করেছি। কিন্তু যৌতুকের নির্যাতন চালিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশ আসামিদের ধরছে না। এটি দুঃখজনক।’


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন