আজ শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



মোটেল সৈকত উদ্বোধনে পর্যটনমন্ত্রী ।। বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে কাজ করে যাচ্ছে সরকার

Published on 04 May 2016 | 2: 27 am

অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হলেও এখন পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের মধ্যে ১০ লক্ষ বিদেশি পর্যটক যাতে বাংলাদেশ ভ্রমণ করে সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি আমরা। এর জন্য পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০১০ সালে ট্যুরিস্ট পুলিশ গঠন করা হয়েছে। তারা কাজ করে যাচ্ছে। তবে জনগণ সহযোগিতা করলে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। গতকাল মঙ্গলবার নগরীর স্টেশন রোডে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত পর্যটন করপোরেশনের ‘মোটেল সৈকত’র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এই কথাগুলো বলেন। মন্ত্রী বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ ঘোষণা করেছেন। চট্টগ্রামে অবকাঠামোগত দুর্বলতা ছিল। ইতিমধ্যে পাঁচ তারকা হোটেল র‌্যাডিসন এসেছে। এরপরেও একটু কম খরচে পর্যটকরা যেন থাকতে পারে সে জন্য সব ধরনের সুযোগসুবিধা নিয়ে মোটেল সৈকত যাত্রা শুরু করলো। এটি নতুন একটি মাইলফলক। চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্পের বিকাশে নেয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, শীঘ্রই চট্টগ্রামকক্সবাজার রুটে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। চট্টগ্রাম বিমান বন্দর সম্প্রসারণ ও কার্গো ভিলেজ নির্মাণের টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। পর্যটন নগরী কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রাস্তা চার লেইন করা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আনোয়ারার পারকী বিচে মোটেল নির্মাণের জন্য একনেকে অনুমোদন পাওয়া গেছে। পতেঙ্গায় আমাদের যে উদ্যোগ ছিল, সেখানে সিডিএ উন্নয়নকাজ করবে। ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ করা হবে। যা এশিয়ান রেল যোগাযোগের সাথে যুক্ত হবে। ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেন হচ্ছে। ছয় লেনে সম্প্রসারিত হবে।

চট্টগ্রামের দৃষ্টি নন্দন বাটালী হিল, কর্ণফুলী নদী, পতেঙ্গা বিচ ঘুরতে আসার স্মৃতি স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, ছোট বেলায় আমরা যখন চট্টগ্রামে আসতাম বাটালী হিলে চলে যেতাম সূর্য উদয় দেখার জন্য। কর্ণফুলী নদীর স্বাভাবিক সৌন্দর্য যে কোন মানুষের ভাল লাগবে। এছাড়া এখানকার লোক কাহিনী ও লোক গান পর্যটনের জন্য বড় সম্পদ। অনেক দেশে দেখেছি নিজেদের খুব ছোট জিনিসকে পর্যটনের বড় উপাদান হিসাবে উপস্থাপন করে। চট্টগ্রামেও এমন সম্ভাবনা আছে। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় বিমান সংস্থায় নতুন নতুন বিমান যুক্ত করছি। অভ্যন্তরীণ রুটের জন্যে লিজের মাধ্যমে আরও দুটি বিমান সংগ্রহ করছি। আরেকটি একেবারে নতুন কিনবো। বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলো মায়ানমার, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে বিমান যোগাযোগ শুরু করেছে। মন্ত্রী বলেন, হজরত শাহজালাল (.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের কাজ চলছে। ২০২০ সালের জুনে সফট ওপেনিং করতে পারবো। আরেকটি সুখবর হচ্ছে, বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে দেশের সর্ববৃহৎ বিমানবন্দর বঙ্গবন্ধুর নামে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২১ সালে এটির নির্মাণকাজ শুরু করতে পারবো।

পর্যটন শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এ শিল্পে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। জাতীয় আয়, কর্মসংস্থানে এ শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। এখন তিন দিন ছুটি পেলে মানুষ ঘরে থাকে না বেরিয়ে পড়ে। ২০২০ সালের মধ্যে এ শিল্পে পাঁচ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে। ১০ লাখ বিদেশি পর্যটককে দেশে নিয়ে আসবো।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য তানভীর ইমাম, মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও বেগম সাবিহা নাহার। সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব এসএম গোলাম ফারুক। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান অপরূপ চৌধুরী।

অপরূপ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে পর্যটককে মুগ্ধ করার জন্য সব কিছু রয়েছে। ৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০ তলা এ মোটেলে ১৫৩টি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে একটি ইন্টারন্যাশনাল স্যুট, সাতটি স্ট্যান্ডার্ড স্যুট, ৬৬টি ডাবল রুম, ৭৯টি টুইনবেডেড রুম। ভাড়া যথাক্রমে ১০ হাজার, ৭ হাজার, ৪ হাজার ৫০০ ও ৩ হাজার ৫০০ টাকা। রয়েছে ৪০০ আসনের দুটি ব্যাংকুইট হল, ১০০ আসনের রেস্তোরা ‘কর্ণফুলী’, ৩০ আসনের কফিশপ ‘সাম্পান’, দুটি জিম। কনফারেন্স রুমগুলোর পূর্ণ দিবসের ভাড়া পড়বে ২৫ হাজার টাকা আর অর্ধ দিবসের ভাড়া ১৫ হাজার টাকা। ২ হাজার ৫শ টাকায় স্পা সুবিধা নিতে পারবেন যে কেউ। এছাড়া মোটেলটিতে দুটি জিম আছে নির্দিষ্ট ফি বিনিময়ে মোটেল এর বাসিন্দা না হলেও এগুলো ব্যবহার করা যাবে।

বেলুন উড়িয়ে ও ফলক উন্মোচন করে মন্ত্রী মোটেলটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে শেষে গান করেন চট্টগ্রামের কিংবদন্তিতুল্য শিল্পী শ্যামসুন্দর বৈষ্ণবের ছেলে প্রেম সুন্দর বৈষ্ণব ও সেরাকণ্ঠের শিল্পী নাবিলা।

এদিকে সরজমিনে মোটেল সৈকত ঘুরে দেখা গেছে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন দেশের সবচেয়ে বড় এই মোটেলটির বারান্দার নিরাপত্তা গ্রিল এর উচ্চতা যথেষ্ট কম। এর ফলে অসাবধানতা বসত বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন