আজ বৃহঃপতিবার, ১৬ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ০১ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



আমার পরম শ্রদ্ধেয় মরহুম মাষ্টার মোয়াজ্জেম হোসেন

Published on 02 May 2016 | 9: 02 am

কে এম আজিজ উল্যা :::
গাছুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চির চেনা এবং চির স্মরনীয় প্রধান শিক্ষক। এই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সিক্ষক, এই স্কুলের অভিবাবক এই স্কুলের রক্ষক।
পূর্ণ যৌবনের শুরু থেকে, পৌঢ় তথাতথা বাধ্যর্ক যখন পেয়ে বসেছে তখন পর্যন্ত শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা এবং সকল প্রকার প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে প্রতিদিন সকালে গোছলাদি সেরে নাস্তা করে একটি টিফিন ক্যারিয়ারে দুপুরের খাবারটুকু বহন করে এই মহান প্রধান শিক্ষক বেলা ৮ ঘটিকায় পূর্বে অফিস কক্ষে এসে পৌছে গেছেন। ইহা ছিল তাঁহার প্রতিদিনকার কর্মসূচী। এত সকাল কি কোন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীও আসে? না আসে না।
কিন্তু শ্রদ্ধেয় মোয়াজ্জেম হোসেন আসতেন। স্কুলটিকে তিনি কতটুকু ভালোবাসতেন তা পরিমাপ করার কোন যন্ত্র আবিস্কার হলে আমি অবশ্যই মেপে দেখতাম।
মুখ ফুটেছে, মায়ের কোলে অবস্থানরত এক শিশুকে মা জিজ্ঞাসা করলেন -“আব্বু তুমি কি আমাকে ভালবাস?
শিশু উত্তর দিল- “হাঁ”
মা জিজ্ঞাসা করলেন “কতটকু”?
শিশুটি তার দু’হাত দুদিকে প্রসারিত করতে করতে হাতগুলো পিছনে নিয়ে গেল। এই ছিল তার মায়ের প্রতি ভালোবাসার পরিমাপ।
সকালেত আসতেন যাওয়ার বেলায়ও সন্ধ্যা নেমে আসত যাওয়ার নামও নাই। দেখা যেত স্কুলের আশ পাশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। স্কুলটাই যেন তাঁর প্রাণ, তাঁর ভালোবাসার বিশাল ক্ষেত্র। শিশুটির মতই ঐ স্কুলটিকে তিনি ভালোবাসতেন।
একটি ফুল বাগান। ঐ বাগানের মালি যত দক্ষ ও আন্তরিক হয় তত বিচিত্র রঙ্গের রঙ্গীন ফুলে সে বাগানটিকে অপরূপ শোভায় সৌন্দর্য মন্ডিত করে তুলতে পারে। প্রিয় ঐ স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ, মোয়াজ্জেম সাহেব কি তাঁহার সৃজিত ক্ষুদ্র পরিসরের ফুল বাগানটিকে একটি নানা ফুলে সজ্জিত বিশাল কাননে পরিণত করতে সক্ষম হননি? আমি বলব- সফল হয়েছেন। তাঁর কাননের ফুর আর ফুলের সৌরভ, বাংলা সহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিিেটয়ে থেকে পূর্ণ বিকশিত হয়ে গাছুয়া গ্রাম তথা মোয়াজ্জেম হোসেনের গৌরব বৃদ্ধি করছে, করতে থাকবে। তাঁহার গুনে, সহায়তায় এবং উদারতার ফলে, আমরা সন্দ্বীপবাসি সকলে, স্পষ্ট দেখছি সেই স্কুলের দপ্তরী ক্লাশ করার সুযোগ পেয়ে পেয়ে ঐ স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন। সেই প্রিয় দপ্তরী/ছাত্রটি পরবর্তিতে ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষক হয়েছিলেন। বাহা মোয়াজ্জেম হোসেন সাহেবের জীবনে একটি নজীর বিহিন শ্রেষ্ঠ ঘটনা। স্কুলের জন্য তিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ, একনিষ্ঠ কর্মি। আশা করি সন্দ্বীপবাসী সবাই অবহিত আছেন, আমাদের প্রাক্তন এমপি জনাব ওবাইদুল হক এবং মোয়াজ্জেম হোসেন, সম্পর্কে চাচাতো/জেঠাতভাই। মোয়াজ্জেম সাহেবের গ্রাজুয়েশনের পর ওবাইদুল হক সাহেব মোয়াজ্জেম সাহেবকে কুমিল্লা পাঠিয়েছেন বি এড প্রশিক্ষনের জন্য (শিক্ষক প্রশিক্ষন মহা বিদ্যালয়)। এরপর এক বছর প্রশিক্ষন শেষ করে উনি পুনরায় এ কে একাডেমির প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। । পরে চাচাতো/জেঠাতভাই উভয়ের অক্লান্ত পরিশ্রমে আজ গাছুয়া এ কে একাডেমী সন্দ্বীপের মধ্যে লেখা পড়ার মান, শিক্ষক মন্ডলীর একাগ্রতা ও আনুগত্য, ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা সর্ব দিকে একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্কুল হিসাবে পরিগণিত।
মোয়াজ্জেম হোসেন একজন সুশিক্ষিত বটেই সাথে সাথে একজন দক্ষ ফুটবলারও ছিলেন। গাছুয়া মাঠে, কাঠগড় সন্দ্বীপ কার্গির মাঠে তাঁকে খেলতে দেখেছি।
একটি ঘটনা : জি.কে স্কুল মাঠে জোবাইদ মাষ্টার সেন্টার থেকে হেড দিয়ে বলটি মোয়াজ্জেমকে দিয়ে জোবাইদ ভাই এগিয়ে গেল। সেই বলটি জোবাইদ ভাই পেয়ে আবারও এগিয়ে যাওয়া মোয়াজ্জেম মিয়াকে দিল। এবার মোয়াজ্জেম মিয়া এমনভাবে বল হেড করলেন যাতে গোল পোষ্টের ঠিক কোনা দিয়ে বলটি শত্রু পক্ষের জালে ডুকে গেল। এই দুই দক্ষ খেলোয়ারের এত সুন্দর কৌশলে গোল দেওয়া বেশ দীর্ঘদিন পর্যন্ত আলোচনার মূল বিষয় ছিল। কারণ এমনটি এ হেন গাঁও গেরামে, দেখা যাওয়ার কথা নয়।
মোয়াজ্জেম সাহেব ছাত্র ছাত্রীদেরকে তার পুত্র কন্যার মতই জানতেন। আমার ছোট ভাই কে এম রবি উল্যা ঐ স্কুলেরই ছাত্র ছিল। ৭ম শ্রেণীতে থাকাকালে খেলার মাঠে দূর্ঘটনায় তার হাত ভেঙ্গে গেল। প্রধান শিক্ষক সাথে সাথে ডা এনে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চার জন ছাত্রতে দিয়ে চেয়ারে বসায়ে বাড়ীতে পৌছায়ে দেন। ১৫ দিন ধরে চিকিৎসা চলা অবস্থায় তিনি দুইবার আমাদের বাড়ী গিয়ে তাঁর ছাত্রটিকে দেখে আসেন।
একবার সন্দ্বীপের একটি বৃহত্তম সংগঠন কারিতাস সারা সন্দ্বীপ থেকে খুজে পাওয়া ১০ জন গুনী ব্যক্তিকে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করেন। সেই সংবর্ধনায় প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন, এ বি এম ছিদ্দিক কমান্ডার সাথে আমি অধম, কে এম আজিজ উল্যাও ছিলাম। অবীতের আবুল খায়ের মিয়া, আলি আকবর মিয়া, এম এস সি সুলতান মিয়া এদের তূলনায় মোয়াজ্জেম মিয়ার অবদান কোন অংশে কম নয়। গাছুয়া স্কুল থেকে অবসর নেয়ার পর মোয়াজ্জেম সাহেব মুছাপুর ‘জেবেননুর উচ্চ বিদ্যালয়’ ও বাউরিয়া ‘আয়েশা ওবায়েদ’ উচ্চ বিদ্যালয়েও একজন দক্ষ শিক্ষকের স্বাক্ষর রেখে গেছেন।
আল্লাহ এই সমাজ সেবক ও দেশ গড়ার কারিগরটিকে বেহস্ত নছিব করুন।

 

 


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন