আজ শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পাবেন ৩৫ হাজার টাকা করে বোনাস ।।

Published on 26 April 2016 | 2: 48 am

মুসলমান পরস্পর ভাই ভাই হলেও পাকিস্তান আমাদের মহাশত্রু। এরা এখনো আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। গণহত্যার কথা অস্বীকার করে জঙ্গিবাদের মাধ্যমে তারা দেশকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল করে তুলে চাচ্ছে। তাদের কাছে এখনো আমরা ৩৫ হাজার কোটি টাকা পাবো। আমাদের প্রাপ্য তাদের থেকে আদায় করেই ছাড়বো বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন নৌ পরিবহণ মন্ত্রী শাহাজাহান খান। গতকাল চট্টগ্রাম বন্দরের ১২৯ তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে ফজলুর রহমান মুন্সী মিলনায়তনে আয়োজিত বন্দরে কর্মরত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়াম্যান রিয়াল এ্যাডমিরাল এম খালেদ ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নৌ পরিবহণ সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাংসদ এম. . লতিফ, বন্দর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ওয়াহিদুল্লাহ সরকার ও বন্দরের ডেপুটি কনজারভেটর ক্যাপ্টেন নাজমুল আলম প্রমুখ।

শাহাজাহান খান বলেন, মুসলমানিত্বের দোহায় দিয়ে পাকিস্তানকে আমরা খেলায় সমর্থন করতে পারিনা। খেলার মাঠে যখন বাঙালির গায়ে কিংবা মুখে পাকিস্তানি পতাকা দেখি তখন আমি ভীষণ আহত হই। এটি নৈতিকভাবে মেনে নেওয়া যায় না। বন্দরের সফলতা প্রসঙ্গে নৌ মন্ত্রী বলেন, বন্দর কেবল চট্টগ্রামের নয়, এটি সমগ্র বাংলাদেশের গর্ব। উল্লেখ্য, চলতি বছর ২০ লক্ষ টিউনস কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড গড়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের ১৩০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বন্দর চেয়ারম্যান থেকে কর্মচারী পর্যায়ে প্রত্যেককে ৩৫ হাজার টাকা করে বোনাস প্রদানের ঘোষণা দেন মন্ত্রী। সাংসদ এম এ লতিফ তার বক্তব্যে বলেন, ভারতের সেভেন সিস্টারস ভৌগলিকভাবে প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। কিন্তু বন্দর সুবিধা না থাকায় তারা সে সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারছে না। যে কারণে তারা চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে তাকিয়ে আছে। এমনকি মংলা ও পায়রা বন্দর থেকেও তারা সহায়তা নিতে মরিয়া। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর আগামী দিনে ‘রিজিওনাল গ্রেট পোর্ট’ হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ায় তার সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে সমর্থ হবে। এ বন্দরের হাত ধরে বাংলাদেশ একদিন ‘ম্যাজিক্যাল বাংলাদেশে’ পরিণত হবে।

বন্দর চেয়ারম্যান এম খালেদ ইকবাল বলেন, মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম বন্দরের অবদান অনস্বীকার্য। স্বাধীনতার ঘোষণা আসার আগেই বন্দরের কর্মচারীরা সর্বপ্রথম দেশমাতৃকা রক্ষার সংগ্রামে নামেন। ২৪ মার্চ পাকিস্তানি জাহাজ এমভি সোয়াত থেকে অস্ত্র খালাসে বাধা প্রদান করেন এই বন্দরের ডক শ্রমিক ও অন্যান্য কর্মচারীরা। এতে সেদিন ২৩জন শ্রমিক নিহত হন। পরবর্তীতে এদের বাধার মুখে তারা জাহাজটি না নিয়েই সৈন্যরা পাকিস্তানে ফিরে যায়। তাই বন্দরের মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানার্থে গত সাত বছরে ২৫৪ জনকে পৌষ্য কোটায় বন্দরে চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বন্দর চেয়ারম্যান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য একটি যাদুঘর ও চলচ্চিত্র/প্রামাণ্য চিত্র নির্মাণের ঘোষণা দেন। উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের ১৫০ সদস্যকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধিতদের নগদ তিন হাজার টাকা এবং একটি করে ডিনার সেট প্রদান করা হয়।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন