আজ বৃহঃপতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৪ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



স্মৃতির কল্লোলে সন্দ্বীপের গোলাম নবী পন্ডিতের বংশগাঁথা

Published on 22 April 2016 | 5: 13 am

পুস্তক সমালোচনা : “স্মৃতির কল্লোলে সন্দ্বীপের গোলাম নবী পন্ডিতের বংশগাঁথা”, গ্রন্থকার- সেলিনা চৌধুরী

এ বি এম সিদ্দিক চৌধুরী

‪#‎গ্রন্থের_নাম‬ : স্মৃতির কল্লোলে সন্দ্বীপের গোলাম নবী পন্ডিতের বংশগাঁথা।
এটি প্রকাশ করেছেন শ্রাবন প্রকাশনী, আজিজ সুপার মার্কেট, ঢাকা। বইটিতে মোট ১৪ টি অধ্যায়, ৪৫৬ পৃষ্ঠা ও মোট ১১০ টি ছবি রয়েছে। বইটির দাম রাখা হয়েছে ৬০০ টাকা।
বইটির পেছনে একটি বড় নির্ঘন্ট রয়েছে। এতে সুবিধা হলো, যে কোন পাঠক ইচ্ছা করলে তাঁর পছন্দ মাফিক পৃষ্ঠা বা অধ্যায় অতি দ্রুত বের করে পড়তে পারবেন।

আলোচ্য গ্রন্থের লেখিকা সেলিনা চৌধুরী বি.এ(অনার্স), এম.এম এমএড। জন্ম কাটগড় গ্রামে, গ্রামটি বর্তমানে বিলুপ্ত। পিতার নাম রুহুল অমীন চৌধুরী, মাতার নাম হাসনা হেনা চৌধুরী, দাদার নাম আলি মিয়া চৌধুরী, নানার নাম আবুল হোসেন চৌধুরী ও স্বামীর নাম ব্যারিষ্টার সাইদুর রহমান। লেখিকা ব্যতীত অন্য কেউ এখন জীবিত নেই। লেখিকার বাড়িটি ‘কাটগড় মিয়া বাড়ি’ নামেও পরিচিত ছিল। লেখিকার পিজা হাজি গোলাম নবী পন্ডিতের নামানুসারে পন্ডিত বাড়ি বলা হতো। লেখিকা গোলাম নবী পন্ডিতের ৫ম বংশধর। গ্রন্থটিতে ৭ম পুরুষ পর্যন্ত তথ্য ও বংশ তালিকা রয়েছে।

গ্রন্থটিতে যে সব ছবি রযেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো লেফটেন্যান্ট জেনারেল হাসান সারওর্য়াাদি, প্রাক্তন সচিব ডক্টর ফায়জুল কবির খান, উইং কমান্ডার সিরাজুল মাওলা ও ভাষা সৈনিক প্রফেসার আসিফুল হক খান। তবে এরা কেউ হাজি গোলাম নবী পন্ডিতের সরাসরি বংশধর নয়। তবে কন্যার বংশধর বা বৈবাহিক সূত্রে পরিবারের সঙ্গে অর্ন্তভুক্ত। গ্রন্থটিতে সাতপুরুষের পরিচিতি ছাড়াও রয়েছে আলহজ্জ গোলাম নবী পন্ডিতের বংশের ছেলেদের ও মেয়েদের শ্বশুরকুলের তথ্যাদি ও ছবি।

লেখিকা সেলিনা চৌধুরী গ্রন্থটিতে সন্দ্বীপের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরেছেন যদিও গ্রন্থটি মূলত লেখিকার পারিবারিক ইতিহাস। তবে কাটগড় গ্রামের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও গ্রামের বিশিষ্ট পরিবার ও ব্যক্তিদের তথ্যাদিও গ্রন্থে স্থান পেয়েছে। এতে গ্রন্থটি পরিপূর্ণতা লাভ করেছে। গ্রন্থটি সুপাঠ্য এবং সাহিত্য রসে পরিপূর্ণ। গ্রন্থটি লেখিকা দু’বছর যে কষ্ট স্বীকার করেছেন তা অতুলনীয়। তাঁর এ অসাধারণ ত্যাগ ও সহিঞ্চুতার জন্য তাঁকে জানাই আন্তারিক ধন্যবাদ। এ কথা নিঃসংশয়ে বলা যেতে পারে যে, সন্দ্বীপের ইতিহাসের একটা বিস্মৃত অধ্যায়ের অনেক মূল্যবান উপকরণ আলোচ্য গ্রন্থে সন্নিবেশিত হয়েছে।

সত্যিকার অর্থে তাঁর ঐকান্তিক আগ্রহ, আন্তরিক প্রচেষ্টা ও অধ্যবসায় না থাকলে এই সুবিশাল গ্রন্থটি প্রকাশ কার সম্ভব হতো না। মেঘনা গর্ভে বিলুপ্ত একটি বংশের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়কে বিস্মৃতির অতল থেকে আলোকে উদ্দিপ্ত করার প্রয়াস নেয়া হয়েছে। যাতে ভবিষ্যত প্রজন্ম নিজ শিকড়ের সন্ধান পায়, নিজ পূর্বসুরিদেও প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং নিজকে এই গৌরবময় অতীতের অংশীদার বলে একাত্মতা অনুভব করতে পারে। আমার জানামতে বাংলাদেশের কোন একক পরিবারের এত বড় গ্রন্থ অদ্যাবধি হয় নাই যদিও সন্দ্বীপে ইতোপূর্বে পারিবারিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে যা তুলনামূলক ভাবে ছোট। আলোচ্য গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হযেছে গোলাম নবী পন্ডিতের পূর্বপুরুষ ও উত্তরপুরুষদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে।

আলোচ্য গ্রন্থটিতে উৎকৃষ্ট কাগজ ব্যবহার করা হযেছে। ছাপা ঝক্ঝকে তক্তকে। মলাট চমৎকার। বইটির বাঁধন, প্রচ্ছদ, গেটআপ ।এতই মনোগ্রাহী যে , ছুয়ে দেখতে ইচ্ছে করে। বইটির কোনো দূর্বল দিক আমার চোখে পড়েনি। তবে কিছু কিছু তথ্য উপাত্ত, কিছু কিছু ব্যক্তির কথা বার বার এসেছে। তবুও আমরা বইটির বহুল প্রচার কামনা করি।

সবশেষে বলব, আলোচ্য গ্রন্থটি শুধু কাটগড় মিয়া পরিবারের সদস্যদের জন্য নয়, উপরন্তু ইতিহাসবিদ, গবেষককে অনুসন্ধিৎসু করবে এবং আগ্রহী পঠকদের নিকট হৃদয়গ্রাহী হবে বলে আমার বিশ্বাস।

অনুলিখন : আব্দুর রহিম রাহাত – সহ সম্পাদক, সোনালী নিউজ


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন