আজ শুক্রবার, ২৫ মে ২০১৮ ইং, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



লিচু রক্ষায় গাছে ইলেকট্রিক বাতি ও বাজনা

Published on 20 April 2016 | 11: 42 am

মৌসুমি ফল লিচু না পাকতেই নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় ব্যস্ত সময় কাটছে ব্যবসায়ী ও ফড়িয়াদের। লিচু পাকার পূর্বপ্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। লিচু গাছগুলোকে দেওয়া হয়েছে ভিন্ন সাজ। কাক ও বাঁদুড়ের উপদ্রব থেকে লিচুকে রক্ষার জন্য ইলেকট্রিক বাতি, বাঁশ ও টিনের তৈরি বাজনা স্থাপন করা হয়েছে প্রতিটি গাছে। এরই মধ্যে প্রতিটি গাছের ডালে থোকায় থোকায় ঝুলছে কাঁচা ও আধাপাকা লিচু। বাগানগুলোতে ক্ষণে ক্ষণে বেজে উঠছে টিন ও বাঁশের তৈরি বাজনা। বাগান মালিকদের মতে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সোনারগাঁর লিচু বাজারে আসতে শুরু করবে।
গতকাল উপজেলার কয়েকটি লিচুবাগান মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবহাওয়ার কারণে অন্য বছরের তুলনায় এ বছর লিচুর ভালো ফলন হয়নি। তাই এবার বিগত সময়ের চেয়ে ভালো মুনাফা না পাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন তারা। ব্যবসায়ীদের মতে দেশের অন্য সব অঞ্চলের লিচু বাজারে আসার আগে সোনারগাঁর লিচু বাজারে আসে। তাই এ লিচু বিক্রি করে তারা অধিক মুনাফা পেয়ে থাকেন।
তথ্য মতে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় দুই শতাধিক লিচুবাগান রয়েছে। এদের মধ্যে খাসনগর, চিলারবাগ, দৈলরবাগ, পানাম, কৃষ্ণপুরা, গোবিন্দপুর, দত্তপাড়া, বাগমুছা, অর্জুন্দী, হাতকোপা, দরপত, ছাপেরবন্ধ, গোয়ালদী, টিপরদী, হরিষপুর, ভট্টপুর, লোকশিল্প জাদুঘর, গাবতলী, হারিয়া, বৈদ্যেরবাজার, তাজপুর, সাদীপুর, ইছাপাড়া, দুলালপুর, বারদী, সেনপাড়া, বালুয়া দিঘিরপাড় এলাকা উল্লেখযোগ্য।
পৌরসভার টিপরদী গ্রামের ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান, তাজপুর গ্রামের বাবুল হোসেন জানান, সোনারগাঁয় কদমী, চায়না-৩, মোজাফফর পুরি, এলাচী, বাদামী (পাতি)-এ পাঁচ ধরনের লিচুর চাষ হয়ে থাকে। কদমী লিচু আকারে বড় ও সুস্বাদু হওয়ায় অন্য লিচুর তুলনায় দাম বেশি। এটি বিক্রি করে অধিক মুনাফা পাওয়া যায়। তাই তারা এ লিচু চাষে মনোযোগী হয়ে পড়েছেন বলে জানান। তারা আরও জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই লিচু বাজারে আসতে শুরু করবে। তবে অন্য বছরের তুলনায় এ বছর দাম একটু বেশি হতে পারে।
লিচু ব্যবসায়ীদের ধারণা, প্রথমদিকে বাজারে আসা প্রতি ১শ’ কদমী লিচু ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা দরে বিক্রি হতে পারে। পুরোদমে লিচু বাজারে এলে বোম্বাই লিচু ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, পাতি লিচু ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং কদমী লিচু ৪০০ থেকে ১০০০ টাকা দরে বিক্রি হয়।
লিচু ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দিন দিন সোনারগাঁয় লিচুবাগানের সংখ্যা কমে আসছে। এর জন্য তারা অপরিকল্পিত নগরায়ণকে দায়ী করছেন।


Advertisement

আরও পড়ুন