আজ সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮ ইং, ০১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



সরকারি অফিসে দুদক আতঙ্ক

Published on 20 April 2016 | 3: 25 am

সরকারি অফিসগুলোতে চলছে ‘দুদক’ আতঙ্ক। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, এলজিইডি, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, সোনালী, জনতাসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে এ আতঙ্ক যেন জেঁকে বসেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর দায়ের করা মামলার আসামিরা অফিসে আসা ছেড়ে দিয়েছেন। কারণ দুদক এ পর্যন্ত প্রায় শতাধিক সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে। তাই দুদকের কর্মকর্তারা গ্রেপ্তার করে নিয়ে যান কিনা এ চিন্তায়ই দিন কাটছে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের। ফলে দুদকের মামলার আসামি অনেক সরকারি কর্মকর্তা ভয়ে আছেন। কেউ কেউ অর্জিত ছুটি নিয়েছেন। আবার কেউবা অসুস্থতার কথা বলে অফিস ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছেন। রাজউক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে দুদক। ১১ই এপ্রিল রাজউকের পরিচালক একেএম শফিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ৮১ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ এবং আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এদিন দুদকের উপ- পরিচালক এসএম রফিকুল ইসলাম তাকে গ্রেপ্তার করেন। এরপর গত ১৬ই এপ্রিল রাজউকের হিসাবরক্ষক তাহমিদুল ইসলাম মিলনকে গ্রেপ্তার করে দুদক। প্রতিষ্ঠানটির উপ-পরিচালক আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মিলন দুদকের দায়ের করা দুটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। গত বছরের অক্টোবরে রাজধানীর শাহবাগ ও শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দুটি দায়ের করে দুদক। এর মধ্যে মানি লন্ডারিং আইনে দায়ের করা একটি মামলায় তাহমিদুলের বিরুদ্ধে ৯৮ লাখ টাকার বেশি সন্দেহজনক ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়। আরেকটি মামলা করা হয় প্রতারণার অভিযোগে। সরকারি কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও ব্যবসায়ী পরিচয়ে পাসপোর্ট নেয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করা হয়। এর আগে ১১ই এপ্রিল বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) সহকারী পরিচালক আবু আশরাফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়। কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া আঞ্চলিক বিআরটিএ অফিস থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে গাড়ির ভুয়া রেজিস্ট্রেশন ইস্যু, রেজিস্ট্রেশনের ফি’র টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ ও জাল জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে গত ২৭শে মার্চ বেসিক ব্যাংকের মামলায় চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলেন- জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ নিয়ে আত্মসাৎকারী ব্যবসায়ী সৈয়দ হাসিবুল গণি গালিব, মো. আকবর হোসেন, ফয়জুন্নবী চৌধুরী ও বেসিক ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ইকরামুল বারী। একই মামলায় ৫ই এপ্রিল গ্রেপ্তার করা হয় বেসিক ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক জয়নাল আবেদীন চৌধুরীকে। এর আগে ৩০শে মার্চ এলসি জালিয়াতির দুই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় সোনালী ব্যাংক নারায়ণগঞ্জ কর্পোরেট শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার মো. নূরুজ্জামানকে। একই দিন এলসি জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংকের ২৫১ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলায় খুলনা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ব্যবসায়ী টিপু সুলতানকে। গত ৬ই এপ্রিল জালিয়াতি ও প্রতারণা মামলায় কুমিল্লা থেকে দুদক গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কুমিল্লা শাখার পরিদর্শক (আইটি) আবু ছালেহ মাহমুদকে। এছাড়া, বরিশালের সাবেক সিভিল সার্জন আফতাব উদ্দিন আহমেদ, সোনালী ব্যাংকের এনসিটিবি শাখার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোশাররফ  হোসেন এবং কুমিল্লার দেবিদ্বার শাখার ম্যানেজার মো. জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে দুদক। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় পটিয়া উপজেলার এলজিইডি’র প্রকৌশলী জিয়াউল হক দুলালকে। এদিকে গতকাল দুদকের বিভিন্ন মামলায় এজাহারভুক্ত ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রাজউক কর্মকর্তা, ব্যাংকার, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী রয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রাজউকের সাবেক তদারককারী ছফির উদ্দিন আকন্দ, যশোর হাউজিং এস্টেটের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মোক্তার আলী, রূপালী ব্যাংক ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া শাখার সাবেক কর্মকর্তা মো. মোর্শেদ আলম, ময়মনসিংহের ফুলপুরের রামভদ্রপুর ইউপির চেয়ারম্যান মো.  রোকনুজ্জামান, ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, ময়মনসিংহ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মো. মঈদুল ইসলাম ও জুনিয়র অ্যাকাউন্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট হোসনে আরা, জামালপুরের ছনকান্দা শাখা গ্রামীণ ব্যাংকের সিনিয়র কেন্দ্র ব্যবস্থাপক আব্দুল ওহাব, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হান্ডি ইন্টারন্যাশনালের মালিক খালেদ সাইফুল, সিজিএ সমবায় ঋণদান সমিতির কোষাধ্যক্ষ আব্দুল কাদের, অগ্রণী কমার্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির সহ-সভাপতি এমএ সাত্তার, ওরিয়ন এয়ার সার্ভিসের শাকিল আহমেদ, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নাইমুল ইসলাম ও কুমিল্লার হোমনার মনিরুল হক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ যোগদানের পর দুদক ‘নখদন্তহীন বাঘ’ তকমা মুছে ফেলতে চাইছে। এ কারণে পুরনো খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করছে।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন